প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন

FAQs

হৃদপিন্ড কিভাবে কাজ করে ?

হৃদপিণ্ডের চারটি প্রকোষ্ঠ রয়েছে। উপরের দুটি অলিন্দ ও নিচের দুটি নিলয়। ডান অলিন্দ ও বাম অলিন্দ হল উপরের প্রকোষ্ঠো যা রক্ত সংগ্রহ করে এবং নিচে অবস্থিত ডান নিলয় ও বাম নিলয়ে প্রেরন করে। ডান নিলয় রক্তকে পালমোনারী ধমনীর সাহায্যে ফুসফুসে এবং বাম নিলয় মহা ধমনীর সাহায্যে সমগ্র শরীরে সঞ্চারিত করে।

ডান অলিন্দ ও বাম অলিন্দ এবং ডান নিলয় ও বাম নিলয় একটি দেয়াল দ্বারা পৃথক থাকে। এই দেয়ালকে ‘সেপটাম’ বলে। ডান অলিন্দে কার্বন ডাই অক্সাইড যুক্ত রক্ত মহাশিরা থেকে প্রবেশ করে অপরদিকে বাম অলিন্দে অক্সিজেন যুক্ত রক্ত পালমোনারী শিরা হতে প্রবেশ করে। ডান ও বাম অলিন্দের মাঝে যে দেয়ালটি দুই ধরনের রক্তকে অলাদা রাখে তাঁর নাম ‘অ্যাটারিয়াল সেপ্টাম’। তদ্রুপ ডান নিলয় ও বাম নিলয়ের মাঝের দেয়ালটি ‘ভেন্টিকুলার সেপ্টাম’ নামে পরিচিত।

হৃদপিন্ডের মাংসপেশি সংকোচন ও প্রসারণের জন্য সিগন্যাল তৈরী হয় পেসমেকার নামক বিশেষায়িত টিস্যুতে। এই পেসমেকার এর সিগন্যাল অনুযায়ী হৃদপিন্ডের প্রকোষ্ঠসমূহের প্রযায়ক্রমিক সংকোচন প্রসারন হয় এবং রক্ত শরীর থেকে হৃদপিন্ডে, হৃদপিণ্ড থেকে ফুসফুসে, ফুসফুস থেকে পুনরায় হৃদপিণ্ডে এবং এরপর হৃদপিন্ড থেকে সমগ্র শরীরে পর্যায়ক্রমিকভাবে সংবহিত হয়ে থাকে।

বাচ্চার জন্মের সময় কি হৃদপিন্ডে কোন ছিদ্র থাকে ?

মায়ের গর্ভে থাকাকালীন সময়ে বাচ্চার দুই অলিন্দের মাঝে (ফোরামেন ওভালি) এবং পালমোনারী ধমনী ও মহা ধমনীর মাঝে (ডাকটাস আটারিওসাস) স্বাভাবিক ভাবেই ছিদ্র থাকে। শিশুর জন্মের প্রথম সপ্তাহেই এই ছিদ্রগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এই ছিদেগুলো ফুসফুস কার্যক্ষম হবার আগে পর্যন্ত রক্ত বাইপাস সার্কুলেশন এ সাহায্য করে থাকে।

‘জন্মগত হৃদরোগ’ বলতে কি বোঝায় ?

‘শিশুদের জন্মগতভাবে হৃদপিন্ডের গঠনগত কিংবা কর্মক্ষমতা জনিত যেকোন ত্রুটিকে শিশুদের জন্মগত হৃদরোগ বলা হয়’।

জন্মগত হৃদরোগীর সংখ্যা কতো ?

সারাবিশ্বে প্রতি ১০০০ জীবিত শিশু জন্মগ্রহন করলে এর মধ্যে ৮-১০ জন শিশু জন্মগত হৃদরোগ সমস্যায় ভোগে।

শিশুর জন্মগত হৃদরোগের কারন কি ?

বেশীরভাগ ক্ষেত্রে শিশুদের জন্মগত হৃদরোগের কারন যানা যায় না।
তবে কিছু কারন সমূহ যা এর সাথে সম্পৃক্ত নিন্মে দেয়া হলঃ

  • গর্ভাবস্থায় মায়ের ইনফেকশন এর হিস্ট্রি
  • ভাইরাল ইনফেকশন (রুবেলা ভাইরাস)
  • ঔষধ এর হিস্ট্রি; যেমন- (এ্যান্টিকনভালসেন্ট, এসিইআই, এ্যালকোহল, সিগারেট ইত্যাদি)
  • মায়ের ডায়বেটিস, উচ্চরক্তচাপ
  • মায়ের কানেক্টিভ টিস্যু ডিজিজ (এসএলই)
  • মায়ের জন্মগত হার্ট ডিজিজ এর হিস্ট্রি থাকে ১৫% ক্ষেত্রে
  • জন্মকালীন সময়ে বাচ্চার স্বল্প ওজন জনিত সমস্যা (আইইউজিআর)- যা গর্ভাবস্থায় বাচ্চার ইনফেকশন আর ফলে হয়ে থাকে।
  • জন্মকালীন সময়ে বাচ্চার অতিরিক্ত ওজন- যা মায়ের ডায়বেটিস নির্দেশ করে।
  • কিছু বংশগত রোগ যেমনঃ মারফেন সিনড্রম, ন্যোনাস সিনড্রম, হ্লট-ওয়ারম সিনড্রম, লং কিউটি সিন্ড্রম।
  • জেনেটিক রোগ- ডাউন সিন্ড্রম, ডিজর্জ সিন্ড্রম ইত্যাদি।

পরবর্তী বাচ্চার ক্ষেত্রে ও কি জন্মগত হৃদরোগ হবার ঝুকি থাকে ?

যখন একটি বাচ্চার হৃদরোগ থাকে, তখন পরবর্তী বাচ্চার ক্ষেত্রে জন্মগত হৃদরোগের ঝুঁকি থাকে প্রায় ২ থেকে ৪ শতাংশ।

শিশুদের জন্মগত হৃদরোগ কি অর্জিত কারনে হতে পারে ?

হ্যাঁ, কিছু কিছু হৃদরোগ জন্মগত ছাড়াও অর্জিত কারনে হতে পারে-

যেমন-

  • মায়োকার্ডাইটিস (ভাইরাল ইনফেকশন এর কারনে)
  • কার্ডিওমায়োপ্যাথি (জেনেটিক কারন বা ইনফেকশন)
  • রিউমাটিক হার্ট ডিজিজ (বাত জ্বর পরবর্তী সময়ে)
  • কাওয়াসাকি ডিজিজ (করনারি রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্থ হয়)

নিম্নলিখিত প্রয়োজনীয় তথ্য সমূহ পূরণ করুন:

কিভাবে বুঝবো আমার শিশুর হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে ?

বাচ্চার রোগের লক্ষনসমূহঃ

  • মায়ের দুধ খাবার সময় শিশু হাঁপিয়ে যায়, শিশুর শ্বাসকষ্ট হয়
  • ঘুম কিমি. হয়, মেজাজ খিটখিটে থাকে
  • শরীর অতিরিক্ত ঘেমে যায়
  • খেলাধুলা বা খাবার সময় বুকের ছাতি ভেতরে দেবে যায়
  • ঘন ঘন ঠান্ডা কাশি হয় এবং এ কারনে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়
  • ওজন বাড়ছে না এবং বয়সের তুলনায় পরিপক্কতা কম হচ্ছে
  • মাঝে মাঝে ঠোঁট বা চামড়া গাঢ় নীল বর্ণ ধারণ করে এবং শ্বাসকষ্ট বৃদ্ধি পায়
  • বুক ধরফর করে এবং খেলাধূলা করতে পারে না

অন্যান্য লক্ষনঃ

  • বুকে ব্যাথা
  • অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
  • বুক ধরফর করা
  • অস্থিসন্ধি ব্যাথা করা
  • স্ট্রোক

হৃদরোগ কি সম্পূর্ণ ভাবে ভালো হয় ?

যদি সঠিক সময়ে রোগী শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয়, তবে বেশীরভাগ হৃদরোগই ভালো হয়।

এই রোগ কি প্রতিরোধ করা যায় ?

যে সকল ক্ষেত্রে আমরা কারন জানি, সে সকল ক্ষেত্রে আমরা প্রতিরোধমূলক ব্যাবস্থা গ্রহণ করতে পারি। তবুও অনেক কারন এখনও আজানাই রয়ে গেছে…

প্রতিরোধে করনীয়ঃ

  • গর্ভধারণের ৩ মাস পূর্বে মায়েদের রুবেলা ভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রদান কড়া।
  • গর্ভকালীন সময়ে মায়েদের বাচ্চার জন্য ক্ষতিকর ঔষধ সেবন থেকে বিরত থাকা।
  • বাত জ্বর হলে সঠিক ভাবে চিকিসার ব্যাবস্থা করা।
  • গর্ভাবস্থায় ডায়বেটিস ও উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখা।
  • মায়েদের ফলিক এসিড যুক্ত খাবার গ্রহণ করা
  • রক্ত সম্পর্কে বিয়ে এবং অল্প বয়সে বিয়ে দেয়া পরিহার করা।
  • এবং দেরীতে গর্বধারণ পরিহার করা