ইনভেস্টিগেশন এন্ড ট্রিটমেন্ট

শিশু হৃদরোগ চিকিৎসার সেবাসমূহঃ

শিশু হৃদরোগীদের চিকিৎসায় রোগের ইতিহাস ও ক্লিনিক্যাল এক্সামিনেশন পাশাপাশি প্রযোজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। উন্নত ও অত্যাধুনিক মেশিন ব্যাবহার এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা রিপোর্ট প্রদান আপনার শিশুর সঠিক রোগ নির্ণয়ে অত্যাবশ্যকীয়। এছাড়াও কার্ডিয়াক ক্যাথেটারাইজেশন ও ডিভাইস ক্লোজার এর জন্যে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির পাশাপাশি প্রশিক্ষিত স্পেশালিষ্ট ও অত্যাবশ্যকীয়।

শারীরিক পরীক্ষাঃ

এটি রোগ নির্ণয়ের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

শিশুদের শারীরিক পরীক্ষাঃ

  • ইনস্পেকশনঃ এ অংশে বাচ্চার শরীর নীল বর্ণ ধারণ করে কিনা তা দেখা হয়
  • পালপেশনঃ এ পর্যায়ে বাচ্চার বুকে হাত স্থাপনের মাধ্যমে হার্ট বিট ও মারমার (অস্বাভাবিক হার্টবিট) ফিল করা হয়
  • অস্কাল্টেশনঃ এ পর্বে স্টেথোস্কোপ এর সাহায্যে অস্বাভাবিক হার্টবিট শোনা হয়

চেস্ট এক্স-রেঃ

এক ধরনের পরীক্ষা যা বিশেষ রশ্মিকে শরীরের মধ্য দিয়ে বিশেষ ফিল্ম এ ফেলে বুকের হৃদপিন্ড ও ফুসফুসের বিভীন্ন বিষয়ে চিকিৎসক ধারনা পেয়ে থাকেন।

ইসিজিঃ

এ পরীক্ষার মাধ্যমে হার্টের মধ্যে ঘটা ইলেক্ট্রিক্যাল ঘটনাবলী রেকর্ড করা হয়। এ কাজে ১০টি ইলেক্ট্রোড ব্যাবহৃত হয়। যার ৬টি বুকে বসানো হয় এবং ৪টি হাতে ও পায়ে বসানো হয়। এই ইলেক্ট্রোড গুলো হার্টের ইলেক্ট্রিক্যাল এ্যাক্টিভিটি যন্ত্রের মাধ্যমে রেকর্ড করে এবং বিশেষ গ্রাফ পেপারে ছাপ তৈরী করে। এটা করতে মাত্র ৫ মিনিট সময়ের প্রয়োজন হয় এবং হার্টের অনেক রোগ সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায়।

ইকোকার্ডিওগ্রাফিঃ

এটা একধরনের বিশেষ পরীক্ষা যেখানে আল্ট্রাসাউন্ড ব্যাবহার করে হৃদপিন্ডের গঠন দেখা হয়। ডপলার ইকোকার্ডিওগ্রাফি ব্যাবহার করা হয় হৃদপিন্ডের অভ্যন্তরের রক্ত চলাচলের দিক নির্ণয়ের জন্যে। এই দুইটি পরীক্ষার সমন্বয়ে শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞগন শিশু হৃদরোগীদের কার্ডিয়াক এ্যাবনরমালিটি নির্ণয় করেন। এছাড়াও কার্ডিয়াক সার্জারি ও জটিল কার্ডিয়াক ক্যাথেটারাইজেশন এ গাইড হিসেবে ইকোকার্ডিওগ্রাফি ব্যাহৃত হয়।

আমাদের হাসপাতালে নিন্মোক্ত পরীক্ষা গুলো হয়ে থাকে-

  • ট্রান্সথোরাসিক ইকোকার্ডিওগ্রাফি (টিটিই)
  • ট্রান্সইসোফেজিয়াল ইকোকার্ডিওগ্রাফি (টিইই)

আমরা শিসশুদের 2D, 3D এবং কালার ডপলার ইকোকার্ডিওগ্রাফি আন্তরজাতিক মানের রিপোর্ট সহকারে প্রদান করে থাকি।

আমরা টিস্যু ডপলার ও স্পিকেল ট্রাক্লিং (টিস্যুর অবস্থান পরিবর্তন) রিপোর্ট প্রদান করে থাকি ?

ইকোকার্ডিওগ্রাফির ধরনসমূহঃ

  • ডপলার ইকোকার্ডিওগ্রাফিঃ

ডপলার ইকোকার্ডিওগ্রাফি হল বিশেষ ধরনের ইকোকার্ডিওগ্রাফি, যেখানে হৃপিন্ডের রক্ত চলাচলের দিক নির্দেশ করে। হৃদপিন্ডের প্রকোষ্ঠগুলোর মাঝে অস্বাভাবিক ছিদ্র থাকলে তা ডপলার পরীক্ষায় ভালোভাবে বোঝা যায়। এছাড়াও হার্টের ভাল্বের সমস্যাও ডপলার পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়।

  • 2D ইকোকার্ডিওগ্রাফিঃ

হৃদপিন্ডের প্রকৃত স্টাকচার ও রিয়েল টাইম মোশন এর মাধ্যমে বোঝা যায়।

  • 3D ইকোকার্ডিওগ্রাফিঃ

এটি আরও বিশেষায়িত ইকোকার্ডিওগ্রাফি যেখানে হৃদপিন্ডের জিওমেট্রিক এ্যাজাম্পসান করা হয়, কমপ্লেক্স জিওমেট্রিক শেপ ভলইউম মাপা হয়, মাল্টি স্লাইস মুডের মাধ্যমে হৃদপিন্ডের স্ট্রাকচার আরও ভালোভাবে বোঝা সম্ভব হয়।

  • কালার ডপলার ইকোকার্ডিওগ্রাফিঃ

এটি ডপলার ইকোকার্ডিওগ্রাফির এ্যাডভান্স প্রযুক্তি। এখানে ডপলার প্রযুক্তির রক্ত চলাচলের দিক নির্দেশনার পাশাপাশি ভীন্ন ভীন্ন কালার ইফেক্ট এর মাধ্যমে অক্সিজেন যুক্ত ও কার্বন ডাই অক্সাইড যুক্ত রক্তের দিক নির্দেশ করে।

  • M-mode ইকোকার্ডিওগ্রাফিঃ

ইকোকার্ডিওগ্রাফির সবচেয়ে সাধারন ও জটিলতা মুক্ত পদ্ধতি, যেখানে হৃদপিন্ডের স্বাভাবিক চিত্র ধারণ করা হয়। M-mode ইকোকার্ডিওগ্রাফি দ্বারা হৃদপিন্ডের গঠন, প্রকোষ্ঠ সমূহের রক্ত সংবহনের ক্ষমতা এবং প্রকোষ্ঠের দেয়ালের পুরুত্ব নির্ণয় করা যায়।

হলটার মনিটরিংঃ

এটি একটি ব্যাটারি দ্বারা পরিচালিত বহনশীল যন্ত্র, যার মাধ্যমে শিশুর ২৪-৪৮ ঘণ্টা কার্ডিয়াক অ্যক্টিভিটি মনিটর করা হয়। এটি একটি ছোট ক্যামেরার সাইজের যন্ত্র এবং এর ইলেক্ট্রোডটি ছোট বোতামের মতো সাইজের হয় যা শিশুর চামড়ায় লাগানো থাকে। এটি শিশুর সারাদিনের ইলেক্ট্রোকারডিওগ্রাম রেকর্ড করতে সক্ষম।

কার্ডিয়াক সিটি/এমআরআইঃ

কার্ডিয়াক এমআরআই একটি নিরাপদ ইমেজিং প্রযুক্তি। এই নন ইনভেসিভ পদ্ধতিতে শরীরের ভেতরে কোন যন্ত্র প্রবেশ না করিয়েই হৃদপিন্ডের সম্পূর্ণ স্ট্রাকচার ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়। কার্ডিয়াক এমআরআই এর মাধ্যমে হৃদপিন্ডের স্টিল ও মুভিং ইমেজ পর্যবেক্ষণ করা হয়। এছাড়াও করোনারী রক্তনালীর অবস্থা ও এর মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা যায়।

কার্ডিয়াক সার্জারিঃ

যেসকল শিশুদের হৃদপিন্ডের জন্মগত ত্রুটি থাকে তাদের অনেকেরই কার্ডিয়াক সার্জারির প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে জিভাইস ক্লোজার কিংবা ক্যাথেটারাইজেশন এর মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়ে থাকে।

কার্ডিয়াক ক্যাথেটারাইজেশনঃ

কার্ডিয়াক ক্যাথেটারাইজেশন একটি বিশেষ চিকিৎসা পদ্ধতি যা অত্যাধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে বাচ্চাদের জন্মগত হৃদরোগের ত্রুটি নির্ণয় ও চিকিৎসা দেয়া হয়। এ পদ্ধতিতে তারের মতো একটি ক্যাথেটার শিশুর রক্তনালী দিয়ে (রানের উপরের আংশ বা ঘাড়ের পাশ দিয়ে) হৃদপিন্ড পর্যন্ত পৌছে যায় এবং পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। এ পদ্ধতিতে কিছু কিছু হৃদরোগের চিকিৎসা ও প্রদান করা হয়।

ডিভাইস ক্লোজারঃ

আমি সফলতার সাথে অনেক শিশু হৃদরোগীদের এ্যাট্রিয়াল সেপ্টাল ডিফেক্ট(এএসডি), ভেন্টিকুলার সেপ্টাল ডিফেক্ট(ভিএসডি)এবং প্যাটেন্ট ডাক্টাস আটারিওসাস(পিডিএ)ডিভাইস ক্লোজার পদ্ধতিতে চিকিৎসা করেছি।

এছাড়াও আমি সফলতার সাথে বেলুন আটারিয়াল সেপ্টোস্টমি, পেরিকার্ডিওসেন্টেসিস এবং টেম্পোরারি পেসমেকার স্থাপন করে থাকি যা শিশু হৃদরোগীদের জীবন রক্ষাকারী পদ্ধতি।